Breaking:
15 April 2026

সাউন্ড বক্স বাজালে তাকে কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না’, কুষ্টিয়ায় মাইকিং

Post

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ওই গ্রামের মসজিদ কমিটি। এ ঘোষণা জানার পরও কেউ বাজালে তাদের সামাজিকভাবে বর্জন করা হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাদের কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না।


শনিবার (৪ এপ্রিল) এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী প্রচার মাইকিং করে এ ঘোষণা দেয় বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি।


পরে দিনব্যাপী প্রচার মাইকের মাধ্যমে এলাকায় এ ঘোষণা জানিয়ে দেয় বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি। এ সিদ্ধান্ত মাইকে প্রচারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩১ সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি ভ্যানে দুটি মাইকে প্রচার করা বার্তায় শুনতে পাওয়া যায়, ‘আজ থেকে মহল্লায় সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজানো নিষেধ। কোনো ব্যক্তি ভুল করিয়া জেনেশুনে সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজান, তাদেরকে মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান থেকে বহিষ্কার করা হইবে। আদেশক্রমে মাজগ্রাম বড় মসজিদের কমিটিবৃন্দ।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী জানান, ২৭ মার্চ, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটির সদস্যরা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন যে বড় মাজগ্রাম মহল্লার অধীনে কোনো বাড়িতে সাউন্ড বক্স ও মাইক সেট বাজানো হলে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের সব কার্যকলাপ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে। মসজিদের উন্নয়নে তাদের থেকে কোনো সহায়তা নেওয়া হবে না। কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এককথায় সামাজিকভাবে তাদের বর্জন করা হবে।


তার ভাষ্য, কোরআনে গানবাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও সম্প্রতি কিছু বিয়ে - সুন্নতে খৎনা বাড়িতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানো হয়েছে। এতে অসুস্থ মানুষসহ সবার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ কুরবান আলী বলেন, ‘বিয়ে ও সুন্নতে খৎনা বাড়ির উচ্চ শব্দের জন্য যেন নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত করা এবং অসুস্থ মানুষের সমস্যা না হয়। সেজন্য সবাই মিলে ঢপ (সাউন্ড বক্স) বাজানো নিষেধ করা হয়েছে। তাছাড়াও একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্যান্ডেল করে অনুষ্ঠান করতে কোনো বাধা নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে জমারত আলী ও রুপা খাতুন দম্পতির বাড়ি। তাদের এতিম নাতি ছেলে আলিফের (৭) শখ পূরণে খৎনা অনুষ্ঠানে তারা ঈদের পরের বৃহস্পতিবার বাড়িতে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে আনন্দ উল্লাস করেছিলেন। এতে মুসল্লিরা অঅস্বস্তি বোধ করলে সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধ করে দেন। এনিয়ে তর্কাতর্কি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটলে পরদিন শুক্রবার আলোচনা সাপেক্ষে গ্রামে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন।

এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলে রুপা খাতুন বলেন, ‘নাতির শখ পূরণ করতে খতনা অনুষ্ঠানে মাত্র এক দিন বক্স বাজানো হয়েছে। তবে নামাজ ও আজানের সময় বন্ধ ছিল। সব সময় সাউন্ডও কম থাকত। তবু শত্রুতা করে মসজিদ কমিটির কিছু লোক প্রভাব দেখিয়ে গ্রামে ঝৈঝামেলা করতেছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এভাবে গানবাজনা নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। কেউ সাউন্ড বক্স ও মাইক সেট অতিরিক্ত শব্দে বাজালে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সচেতন করা যেতে পারে। অথবা প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এভাবে মাইকিং করে বন্ধ করা ঠিক নয়।

বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন বলেন, সব ধরনের গানবাজনা বন্ধ বিষয়টি ঠিক ও রকম নয়। উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ও মাইক বাজানো বন্ধের বিষয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মাইকিংয়ে কী প্রচারিত হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেছেন।

বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, প্রশাসন থেকে এমন কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মসজিদ কমিটির সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

কুমারখালীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস বলেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষ স্বাধীন। আমরা কারও ওপর কিছু চাপায় দিতে পারি না। এটা বন্ধ করার আইন-এখতিয়ার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই। প্রত্যেকটা ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি নিজস্ব চেতনা আছে। এটা সৃষ্টির শুরু থেকেই আছে। সুতরাং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

Author Figure

Mid Method

Our Mission

Our mission is to help websites and businesses grow through consistent, high-quality, and valuable written content. We believe that strong content builds trust, increases visibility, and keeps audiences engaged.